Advertisement

পুরানো স্মৃতির ছোঁয়া: নীল ডায়েরি দিয়ে জীবনের প্রথম ভালোবাসার গল্প

পুরানো নীল ডায়েরি খুলতেই ফিরে আসে সেই প্রথম ভালোবাসা – একটি রোম্যান্স গল্প

নীল ডায়েরির কভার — পুরানো স্মৃতি ও প্রথম ভালোবাসা

কিছু স্মৃতি কখনো পুরোনো হয় না—সময়ের ধুলো জমলেও অনুভূতির রং ঠিকই অটুট থাকে। ঠিক তেমনই এক বিকেলে, আলমারির কোণ থেকে বেরিয়ে এলো একটি পুরানো নীল ডায়েরি। ধুলোয় ঢাকা সেই ডায়েরির প্রতিটি পাতায় লুকিয়ে আছে জীবনের প্রথম ভালোবাসার গল্প, না বলা কিছু কথা আর হারিয়ে যাওয়া অনুভূতির ছোঁয়া। ডায়েরির মলিন পাতায় লেখা শব্দগুলো যেন আজও জীবন্ত, যেন এখনো কারো অপেক্ষায় আছে।

পুরানো স্মৃতির ছোঁয়া শুধু অতীতের কথা বলে না, এটি মনে করিয়ে দেয় সেই সময়কে—যখন ভালোবাসা ছিল নিঃস্বার্থ, অনুভূতি ছিল গভীর আর সম্পর্ক ছিল নিখাদ। নীল ডায়েরির প্রতিটি পাতায় লুকিয়ে আছে প্রথম প্রেমের লাজুক হাসি, নীরব কষ্ট আর না পাওয়ার ব্যথা। এই গল্পটি সেই সব মানুষের জন্য, যারা আজও কখনো না কখনো পুরোনো স্মৃতির ভিড়ে হারিয়ে যায়। (পুরানো স্মৃতির ছোঁয়া প্রেমের গল্প)

এই প্রথম ভালোবাসার গল্প শুধু একটি ব্যক্তিগত ডায়েরির কাহিনি নয়, এটি অসংখ্য হৃদয়ের অনুভূতির প্রতিচ্ছবি। যদি আপনার জীবনেও কখনো এমন কোনো স্মৃতি থাকে, যা আজও মন ছুঁয়ে যায়, তাহলে এই নীল ডায়েরির গল্প আপনাকে নিজের জীবনের কাছেই ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। পড়তে থাকুন—কারণ প্রতিটি পাতার শেষে অপেক্ষা করছে এক টুকরো আবেগ, এক টুকরো সত্য ভালোবাসা।

    রেললাইনটা শহরের শেষ প্রান্তে এসে হঠাৎ থেমে গেছে—যেনো কেউ ইচ্ছে করেই আর বাড়তে দেয়নি। এই জায়গাটায় এসে দাঁড়ানোই ছিলো রাহাতের সবচেয়ে বড়ো অভ্যাস। কেউ জানত না কেনো সে এখানে আসে, কেউ জানতে চায়ও না। (নীল ডায়েরিতে লেখা প্রথম ভালোবাসা)

রাহাতের হাতে তখনও সেই পুরনো নীল ডায়েরিটা। কাগজগুলো হলুদ হয়ে গেছে, কিন্তু ভেতরের লেখাগুলো এখনো তাজা। প্রতিটা পাতায় একটাই নাম বারবার ফিরে এসেছে—ইরা।

ইরাকে প্রথম দেখা হয়েছিলো তিন বছর আগে, একটি ট্রেনে। বারুইপুর থেকে শিয়ালদহ পথে। জানালার পাশে বসে সে বই পড়ছিলো—কবিতার বই। ট্রেনের ঝাঁকুনিতে বইটা একসময় তার হাত থেকে পড়ে যায়। রাহাত বইটা তুলে দিয়ে বলেছিলো,
“কবিতা পড়লে যাত্রা ছোটো লাগে?”

ইরা মাথা তুলে তাকিয়েছিলো। চোখে ছিলো বিস্ময় আর মৃদু হাসি।
“কিছু যাত্রা কখনোই ছোটো লাগে না,” সে বলেছিলো।

সেই কথাটাই ছিলো তাদের পরিচয়ের শুরু।

ট্রেনের শব্দের ভেতর তারা কথা বলেছিলো—পছন্দের লেখক, শহরের ভিড়, আর জীবনের না বলা স্বপ্ন নিয়ে। নাম জানা হয়েছিলো, ঠিকানা নয়। নাম্বার নেওয়া হয়েছিলো, প্রতিশ্রুতি নয়।

এরপর যোগাযোগ চলেছিলো। কখনো ফোনে, কখনো দীর্ঘ মেসেজে। ইরা কথা বলত ধীরে, ভেবে। রাহাত বলত দ্রুত, আবেগে। তারা একে অন্যকে সম্পূর্ণ বুঝতো না, কিন্তু অনুভব করতো—এটাই যথেষ্ট।

ছয় মাস পর তারা দেখা করলো আবার। শহরের পুরনো এক মেলায়। ইরা একটি হলুদ সালোয়ার কামিজ পরেছিলো। রাহাত আজও সেই রঙ ভুলতে পারেনি। (ডায়েরি নিয়ে বাংলা প্রেমের গল্প)

“তুমি কি জানো,” ইরা বলেছিলো,
কিছু সম্পর্ক বইয়ের মতো প্রথম আর শেষ পাতা থাকে, কিন্তু মাঝখানটা কখনো থাকে না।

রাহাত হেসে বলেছিলো,
“আমাদেরটা আমি লিখে নেবো।”

ইরা কিছু বলেনি। শুধু ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গিয়েছিল কিছুক্ষণের জন্য।

ভালোবাসাটা কখন জন্ম নিলো—সেটা কেউ জানে না। হয়তো জন্ম নেয়নি কখনোই, শুধু বেড়ে উঠেছিলো। তারা কখনো বলেওনি—“আমি তোমাকে ভালোবাসি।” কথাটা তাদের কাছে খুব ভারী মনে হতো।

ইরা একদিন জানালো, সে শহরের বাইরে যাবে। পড়ালেখা জন্য। রাহাত সেদিন খুব স্বাভাবিক ছিলো। খুব বেশি স্বাভাবিক।

“ফিরে আসবে তো?” সে জিজ্ঞেস করেছিলো।

ইরা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলেছিলো,
“ফিরে আসা কি সব সময় নিজের হাতে থাকে?”

সেই দিনই প্রথম রাহাতের মনে হয়েছিলো—সে দেরি করে ফেলছে।

বিদায়ের দিন ইরা খুব চুপচাপ ছিল। চোখে জল ছিলো না, মুখে হাসিও না। রাহাত অনেক কিছু বলতে চেয়েছিলো। আর বলতে চেয়েছিলো—সে অপেক্ষা করবে, সে পাশে থাকবে, সে ভালোবাসে।

কিন্তু কিছুই বলেনি।

ইরা চলে গিয়েছিলো। পেছনে রেখে গিয়েছিলো নীল ডায়েরিটা। বলেছিলো,
“তুমি লিখো। আমি পড়বো।”

প্রথম কয়েক মাস তারা নিয়মিত কথা বলতো। তারপর ধীরে ধীরে ব্যবধান বেড়েছে। সময়ের অজুহাতে, ব্যস্ততার নামে। একসময় ইরা আর উত্তর দেয় না। (হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসার স্মৃতির গল্প)

এক বছর পর একটি Text আসে।
রাহাত আমি বিয়ে করছি । তুমি ভালো থেকো । ধন্যবাদ—সব নীরবতার জন্য।

রাহাত সেই Text টা অনেকবার পড়েছিলো। শেষ লাইনে এসে বারবার থেমে গিয়েছিলো।

এরপর সময় কেটেছে। শহর বদলেছে। মানুষ বদলেছে। শুধু কিছু অভ্যাস বদলায়নি। যেমন—রেললাইনের পাশে দাঁড়ানো।

আজ ৩ বছর পর, রাহাত আবার ও সেই নীল ডায়েরি খুলেছে। শেষ পাতায় গিয়ে লিখেছে—

“ইরা, তুমি কি জানো—অসম্পূর্ণ ভালোবাসা কখনো শেষ হয় না। সে শুধু অন্যনামে বেঁচে থাকে।”

হঠাৎ পেছন থেকে কণ্ঠ শোনা গেলো,
“এখনো লিখো?”

রাহাত ঘুরে দাঁড়ালো।

ইরা।

চুল ছোট হয়েছে, চোখে ক্লান্তি, কিন্তু দৃষ্টি সেই একই। রাহাত বিশ্বাস করতে পারছিলো না।

“তুমি এখানে?” রাহাত বললো।

ইরা মাথা নাড়লো।
“বাবা অসুস্থ। এসেছি দেখতে।”

দুজন পাশাপাশি রেললাইনের ধারে বসলো। কথা হচ্ছিলো না। কিছু প্রশ্ন সময়ের সঙ্গে পুরনো হয়ে যায়।

“তুমি সুখী?” রাহাত জিজ্ঞেস করলো।

ইরা আকাশের দিকে তাকিয়ে বললো,
“আমি ঠিক আছি।”

রাহাত বুঝলো—এই উত্তরও আগের মতোই অসম্পূর্ণ।

একটা ট্রেন দূরে হুইসেল দিল। কিন্তু এই লাইনে আর ট্রেন চলে না। (আবেগ ছোঁয়া বাংলা গল্প ডায়েরি)

“তুমি যদি সেদিন কিছু বলতে…” ইরা থামলো।

রাহাত ধীরে বললো,
“আমি বলিনি। তাই আজও লিখি।”

ইরা উঠে দাঁড়াল।
“আমাদের কিছু গল্প পূর্ণ না হওয়াই ভালো।”

সে চলে গেলো।

রাহাত আবার রেললাইনের দিকে তাকাল। থেমে থাকা লাইন। ঠিক তাদের মতো।

নীল ডায়েরিটা বন্ধ করে সে ভাবলো—কিছু ভালোবাসা গন্তব্যে পৌঁছায় না। তবু তারা পথের গল্প হয়ে থেকে যায়।






Post a Comment

0 Comments