Advertisement

রাখাল বাড়ির দীপশিখা

রাখাল বাড়ির দীপশিখা – বাংলা রহস্য ও রোমান্স গল্প

“রাখাল বাড়ির দীপশিখা – বাংলা রহস্য ও রোমান্টিক গল্পের দৃশ্য”

রাখাল বাড়ির দীপশিখা একটি রহস্যময় গল্প, যেখানে ছোট্ট গ্রামীণ পরিবেশ, গোপন রহস্য এবং হৃদয়স্পর্শী আবেগ মিলেমিশে এক অনন্য কাহিনী তৈরি করে। এই গল্পটি পাঠককে নিয়ে যায় গ্রামের মৃদু বাতাস, চাঁদের আলো এবং দীপশিখার আলোর জাদুর ভেতর দিয়ে। (বাংলা রহস্য গল্প)



গল্পটি শুধু রোমান্স নয়, এক ধরণের রহস্যময়তা ও নস্টালজিয়ার অনুভূতিও তৈরি করে। ভারত এবং বাংলাদেশের পাঠকরা গল্পে খুঁজে পাবেন গ্রামের সাধারণ জীবন, মানবিক সম্পর্ক এবং আবেগের গভীরতা।

রাখাল বাড়ি

গ্রামটির নাম ছিলো রাখালবাড়ি। নদীর ধারে ছোট্ট গ্রাম, কিন্তু তার বুকের ভেতর ছিলো বহু বছরের স্মৃতি, সুখ-দুঃখ, আশা আর ভাঙনের ইতিহাস। আমি তখন খুব ছোট, যখন প্রথম বুঝেছিলাম—এই মাটি শুধু ফসল ফলায় না, মানুষের ভাগ্যও গড়ে তোলে, আবার ভেঙেও দেয়।


আমার নাম মাধবী। একজন গ্রামের নারীর, যে ইতিহাসের বড় বড় ঢেউয়ের ভেতরেও নিজের অস্তিত্ব ধরে রাখতে চেয়েছিলাম।


আমার বিয়ে হয়েছিল খুব অল্প বয়সে। স্বামী নীলকণ্ঠ—নরম স্বভাবের মানুষ, কিন্তু সিদ্ধান্তে দৃঢ়। সে শহরে পড়াশোনা করেছে, নতুন চিন্তাধারা নিয়ে গ্রামে ফিরেছে। আর আমি? আমি ছিলাম এই গ্রামের মেয়ে—গরুর গন্ধ, মাটির স্পর্শ আর রান্নাঘরের ধোঁয়ায় বড়ো হওয়া। (হৃদয়স্পর্শী বাংলা গল্প)


শুরুর দিনগুলো সহজ ছিল না। নীলকণ্ঠ চেয়েছিল আমি পড়তে শিখি, খবরের কাগজ বুঝি। আমি ভয় পেতাম—এত কিছু জানলে যদি শান্তি নষ্ট হয়? তবু ধীরে ধীরে শিখেছিলাম অক্ষর চেনা, শব্দ জোড়া দেওয়া, আর মানুষের কথা শোনা।


সময় বদলাতে শুরু করলো। শহর থেকে খবর আসত—দেশ ভাগ হবে, মানুষ ভাগ হবে, ধর্মের নামে নতুন সীমারেখা টানা হবে। গ্রামে তখনও সব একসাথে—হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ—সবাই একই নদীতে স্নান করে, একই হাটে কেনাবেচা করে। (রহস্যময় বাংলা গল্প – Mystery Bengali Story)

কিন্তু বাতাস বদলাচ্ছিলো।


একদিন হঠাৎ পাশের গ্রাম থেকে খবর এলো—আগুন লেগেছে। কেউ বলল দাঙ্গা, কেউ বলল রাজনীতির খেলা। আমি প্রথমবার ভয় পেলাম—ভয় শুধু নিজের জন্য নয়, এই মাটির জন্য।


নীলকণ্ঠ বললো,

মাধবী, আমাদের হয়তো চলে যেতে হবে।


আমি চুপ করে রইলাম। যাওয়া মানে কী? এই বাড়ি, এই উঠান, এই তুলসীতলা—সব ফেলে?


আমার শাশুড়ি বললেন,

মেয়েরা আগুনের মতো—সব পুড়ে গেলেও টিকে থাকে।


কিন্তু আগুন তো পোড়ায়ও।


ধীরে ধীরে মানুষ যেতে শুরু করলো। কেউ পশ্চিমে, কেউ পূর্বে। ট্রেনের কথা শুনতাম—লোকে বলে, ট্রেন আর লাশ একসাথে যায়। আমি কান চেপে ধরতাম। (বাংলা গল্প ২০২৬ – Bengali Story 2026)


এক রাতে হঠাৎ চিৎকার। দূরে আগুনের আলো। নীলকণ্ঠ দরজা বন্ধ করলো। আমি ছোট ছেলেটাকে বুকে চেপে ধরলাম। মনে হলো, এই বুকই আমার শেষ আশ্রয়।

পরদিন দেখা গেল—আমাদের প্রতিবেশী রশিদ চাচার বাড়ি খালি। ওরা রাতেই চলে গেছে। উঠানে শুধু পড়ে আছে একটা ভাঙা লণ্ঠন।


আমি প্রথমবার বুঝলাম—দেশ মানে শুধু মানচিত্র নয়, দেশ মানে মানুষ।


নীলকণ্ঠ আবার বললো,

চলো মাধবী, এবার আমাদের পালা।


আমি তাকালাম উঠোনের দিকে। বললাম,

তুমি যাও। আমি থাকব।


সে অবাক হলো।

এখানে বিপদ।


আমি শান্ত গলায় বললাম,

বিপদ তো সবখানেই। কিন্তু এই মাটিতে আমার শেকড়।


সেদিন সে একা চলে গেলো। আমি রইলাম। গ্রামের আরও কিছু নারীও রইলো—কারও স্বামী গেছে, কারও মারা গেছে, কারও খোঁজ নেই।


দিন কঠিন ছিলো। ফসল কম, ভয় বেশি। তবু আমরা বাঁচলাম। একে অন্যের পাশে দাঁড়ালাম। আমি হাল ধরলাম। মাঠে কাজ শিখলাম। হাটে দরদাম শিখলাম।


লোকজন আমাকে নতুন চোখে দেখতে শুরু করলো।


বছর কেটে গেলো। দেশ নতুন নাম পেলো। সীমান্ত দাঁড়ালো। কিন্তু আমার ঘর দাঁড়িয়েই রইল—ভাঙা, তবু জীবিত। (ছোট গল্প বাংলা – Short Story Bengali)


একদিন বহু বছর পর নীলকণ্ঠ ফিরে এলো। চুল পেকে গেছে। চোখে ক্লান্তি।


বললো,

ফিরে আসতে পারিনি আগে।


আমি কিছু বললাম না। শুধু উঠানে বসতে দিলাম।


সে বলল,

তুমি আগুনের মতো—পুড়ে আলো হয়েছো।


আমি হেসে বললাম,

না। আমি দীপশিখা। ঝড়ে কাঁপি, তবু নিভি না।


রাখালবাড়ি আজও আছে। নদী ভাঙে, গড়ে। ইতিহাস বদলায়। কিন্তু এই গল্প থেকে যায়—এক নিরবে।


Post a Comment

0 Comments